সূর্যের যে আলো ভূপৃষ্ঠে
আসে তা হতে পারে
৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বের!!!!!
আমরা সবাই জানি এই ব্রক্ষ্মান্ডে
কোনো কিছুর বেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি হতে পারে না যার ধারনা আলবার্ট আইনষ্টাইন ১৯০৫
সালে দিয়েছিলেন।
আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১,৮৬,৩৮৮ মাইল অথবা প্রতি
সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কি: মি:। সূর্য পৃথিবী হতে প্রায় ২.৯৬ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থিত।
এই মানগুলো ব্যবহার করে যদি আমরা সময় বের করি তবে সূর্য হতে পৃথিবীতে আলো আসতে যে সময়
লাগবে তা হবে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। এটা আমরা কম বেশি সকলেই জানি। এর অর্থ আমরা যে মুহূর্তে
সূর্যকে দেখি তা ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগের পুরোনো সূর্য। যদি সূর্য হঠাৎ করে উদাও হয়ে
যায় তবে তা ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর আমরা বুঝতে পারবো।
কিন্তু এটা জেনে আপনি আশ্চর্য হবেন
- সূর্যের যে আলো আমারা পাই তা সূর্যের ভেতরে লক্ষ লক্ষ বছর দিক বিদিক ঘুরাঘুরি করে
তারপর সূর্যের প্রভাবমুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসে।
আমরা জানি সূর্যের ব্যাসার্ধ ৪ লক্ষ ৩২ হাজার
মাইল । আর এই দূরত্ব অতিক্রম করতে আলোর মাত্র ২ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু সূর্যের ভেতর
ফোটন অর্থাৎ আলোর কনা সরলরেখায় চলতে পারে না । সূর্যের কেন্দ্র হতে উপরের পৃষ্ঠাতে
আলো আসতে কয়েক হাজার বছর সময় লেগে যায়। সূর্যের ভেতরে ফোটনের চলার পথকে ড্রাংকেন পথ বলে। ড্রাংকেন পথের অর্থ হলো একজন ব্যক্তি
যদি নেশাগ্রস্থ থাকে তখন তার চলার পথ রেন্ডম হয় মানে এদিক ওদিক ঘুরাফেরা করতে থাকে।
ঠিক এমনি করেই ফোটন ( আলোক কনা ) সূর্য গোলকের ভেতরে এদিক ওদিক ঘুরাফেরা করতে থাকে
লক্ষ লক্ষ বছর।
এখন প্রশ্ন হলো এমনটা কেন ঘটে?
এজন্য সূর্যের ভেতরে ফিউশন নামক যে বিক্রিয়াটি হচ্ছে তা প্রথমে বুঝতে হবে। সূর্যের ভেতরে দুটি হাইড্রোজেন এটম একত্রিত হয়ে হিলিয়াম উৎপন্ন হয় যা ফিউশন নামে পরিচিত। আর বিলিয়ন বিলিয়ন সংখ্যায় এই বিক্রিয়াটি হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় নিউট্রিনো নামক কনা উৎপন্ন হয় এবং সেই সাথে গ্যামা রশ্মি নির্গত হয় যা উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ফোটন ছাড়া আর কিছুই নয়।
এখন প্রশ্ন হলো এমনটা কেন ঘটে?
এজন্য সূর্যের ভেতরে ফিউশন নামক যে বিক্রিয়াটি হচ্ছে তা প্রথমে বুঝতে হবে। সূর্যের ভেতরে দুটি হাইড্রোজেন এটম একত্রিত হয়ে হিলিয়াম উৎপন্ন হয় যা ফিউশন নামে পরিচিত। আর বিলিয়ন বিলিয়ন সংখ্যায় এই বিক্রিয়াটি হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় নিউট্রিনো নামক কনা উৎপন্ন হয় এবং সেই সাথে গ্যামা রশ্মি নির্গত হয় যা উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ফোটন ছাড়া আর কিছুই নয়।
নিউট্রিনো অন্য কোনো কনার
সাথে প্রতিক্রিয়া দেখায় না,তাই সে কোনো বাধা ছাড়াই সূর্যের কেন্দ্র থেকে খুব সহজে বেরিয়ে
আসতে পারে।
অপরদিকে গ্যামা রশ্মি ( উচ্চ
শক্তি সম্পন্ন ফোটন ) খুব বেশি মাত্রায় পরমানু বা অন্যান্য কনার সাথে প্রতিক্রিয়া করে,
সংঘর্ষ হয় এবং শোষিতও হয় । ফলে এর গতি রেন্ডম হয় ও সূর্যের অভ্যন্তরে রেন্ডমলি ঘুরাফেরা
করতে করতে সূর্যপৃষ্ঠ হয়ে বেরিয়ে যেতে ১০ হাজার থেকে ৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে।
পরিশেষে আমরা যে আলো পাচ্ছি
তা সূর্যপৃষ্ঠ হতে পৃথিবীতে আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় লাগে ঠিকই কিন্তু সেই আলোটি
হতে পারে ৫০ মিলিয়ন বছর আগে সূর্যের কেন্দ্রে তৈরি হয়েছিল।



